নিমতলী ট্র্যাজেডির পর আবারো আগুনে পুড়লো ওয়াহিদ ম্যানসন, চকবাজার




২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর নবাব কাটরায় রাত ৯টার দিকে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন ধরে যায়। সেখানে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ছিল। ফলে আগুনের লেলিহান শিখা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মুহূর্তে আগুন আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষের চোখের সামনে বহু মানুষ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। সেই দুর্ঘটনায় ১২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। পুড়ে যায় ২৩টি বসতবাড়ি, দোকান ও কারখানা।

আহত যাঁরা বেঁচে আছেন, শুধু তাঁরাই বলতে পারবেন সেদিন তাঁদের চোখের সামনে কী বিভীষিকাময় চিত্রই না ফুটে উঠেছিল। তাঁরা কেয়ামতের ভয়াবহতা নিজ চোখে দেখে এসেছেন।

পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারছিল না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নানাভাবে চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছিল। প্লাস্টিক কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আহতদের আর্তনাদ আর চারপাশের মানুষের আহাজারিতে নিমতলীর বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। তিনি আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসার নির্দেশ দেন। ৫ জুন রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায় বিপজ্জনক কেমিক্যালের শত শত কারখানা ও  গুদাম রয়েছে। এবং প্রায়ই কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লেগে নানা দুর্ঘটনা ঘটে। দাবি ওঠে সেসব কারখানা ও গুদাম ওই এলাকা থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার। এ ব্যাপারে সরকারও কেমিক্যালের গুদাম এবং কারখানা সরাতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তারপর কেটে গেছে ছয়-ছয়টি বছর। সেই বিপজ্জনক কেমিক্যালের কারখানা ও গুদাম এখনো সরানো হয়নি, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদিকে আবারও কেমিক্যালের গুদাম ও কারখানা সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তার পরও এসব সরে নাই।

২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে আবারো চকবাজার ওয়াহিদ ম্যানসনে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এর পাশের আরও একটি চারতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে মোট চারটি ভবনে আগুন লাগে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন লাগা চারটি ভবনের নিচে কমপক্ষে ত্রিশটির বেশি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনের মধ্যে কয়েকটিতে গ্যাস সিলিন্ডার, বার্মিজ স্যান্ডেল, পারফিউম মজুদ করা ছিল। ভবনে লাগা আগুন এসব গোডাউনে ছড়িয়ে পড়লে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে শুরু করে। যে শব্দ পাওয়া যাচ্ছে তা পারফিউমের বোতল বিস্ফোরণের।

9,344 total views, 172 views today

Comments

comments




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*